আপনি ছোট বেলায় নিশ্চয়ই গেম খেলেছেন? আপনার ঘরে যদি ছোট কোন বাচ্চা থাকে সেও নিশ্চয়ই গেম খেলে থাকে? আপনি সব সময়ই কিন্তু গেম খেলে এসেছেন বা কারও গেম খেলা দেখে এসেছেন কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন এই ভিডিও গেমগুলো আমাদের উপর কোন প্রভাব ফেলছে কি না?

আপনি হয়তো জেনে অবাক হবেন তবে অনেক গেমকেই কিন্তু ভায়োলেন্সের কারণে বিভিন্ন দেশে নিষেধ করা হয়েছে। এখন আপনিই বলুন, যদি একটি গেম মানুষের উপর প্রভাব নাই ফেলতে পারে তবে কোন একটি দেশ থেকে কেন সামান্য একটি ভিডিও গেমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে? ল্যাবের কিছু গবেষণা থেকে জানা যায় ভায়োলেন্ট গেম খেলার পর অনেক গেমারের মধ্যেই এগ্রেশন বৃদ্ধি পায় ৪ শতাংশের মত। তবে অনান্য গবেষণায় দেখা যায় এই এগ্রেশনের পেছনে মূল কারণগুলো হচ্ছে ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড, মেন্টাল হেলথ এবং আশেপাশের পরিবেশ। অন্যদিকে কিছু বিজ্ঞানী ভিডিও গেমস এবং রিয়েল ওয়ার্ল্ডের মধ্যে কোন প্রকার লিংক খুঁজে পেতেও ব্যার্থ হয়েছেন। তবে ভায়োলেন্সের বিপক্ষে শক্ত কোন প্রমাণ না থাকলেও ভিডিও গেম আমাদের মস্তিষ্ক তথা আমাদের কিছু ক্ষেত্রে এগিয়ে দিচ্ছে এবং এর পেছনে বেশ কিছু শক্ত তথ্য আছে বিজ্ঞানীদের কাছে, আর সেই তথ্যগুলোই আজ শেয়ার করছি আপনাদের সাথে। আলোচনা করব এমন কিছু ভালো দিকের যা ভিডিও গেমের মাধ্যমে আমরা পেয়ে থাকি। চলুন্ম শুরু করা যাক।

 

ভিডিও গেমের মাধ্যমে মোটর স্কিল বৃদ্ধি পায়

 

 

আন্ডারগ্রাউন্ড নামের একটি গেমের পেছনে মূলত কাজ করেছেন ডক্টর হেঙ্ক টেন কেট হোডিমেকার। গেমটিতে প্লেয়ারকে একটি ছোট বাচ্চা এবং তার রোবোটকে একটি মাইনের মধ্যে থেকে বের করতে হবে।

গেমপ্লে শুনে সহজ গেম মনে হলেও এটি কোন সাধারণ গেম নয়। কেট হোডিমেকার মূলত একজন সার্জন এবং তিনি এই আন্ডারগ্রাউন্ড গেমটিকেও ডিজাইন করেছেন তাঁর প্রফেশনের সাথে যুক্ত কিছু এলিমেন্ট নিয়েই।

গেমটিতে এমন কিছু কনট্রোল ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করতে পারবেন যেগুলো সার্জারির সাথে সম্পর্কিত এবং কেট গবেষণায় দেখেছেন গেমটিতে যে ব্যবহারকারীরা ভালোভাবে সেই টুলগুলো ব্যবহার করতে পেরেছেন তারা সার্জিকাল স্কিলেও পরবর্তিতে ভালো করেছেন।

 

ভিডিও গেম ভিস্যুয়াল অ্যাবিলিটি বাড়ায়

 

 

সমগ্র বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানীরা ভিডিও গেমের উপর ইনভেস্ট এবং রিসার্চ করে যাচ্ছেন এগুলোর পেছনে থাকা পটেনশিয়াল হিডেন বেনিফিটগুলো জানার জন্য। ইউনিভার্সিটি অফ জেনেভার একজন প্রফেসর ডাফনি বেভেলিয়ার গেমার এবং নন-গেমারদের মাঝে ভিস্যুয়াল অ্যাবিলিটিস পরীক্ষা করে দেখেছেন। পরীক্ষাটি ছিল এমন যে সাবজেক্টকে একই সাথে মাল্টিপল মুভিং অবজেক্টের পজিশন ট্র্যাক করতে হবে।

গবেষণা শেষে তিনি দেখতে পান যারা ভিডিও গেম খেলেন তাদের ভিস্যুয়াল অ্যাবিলিটি নন-গেমারদের থেকে ঢের বেশি। কেননা তিনি মনে করেন, যারা ফাস্ট অ্যাকশন গেম খেলে থাকে তাদের সর্বক্ষণ তাদের অ্যাটেনশন স্ক্রিনের এই প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, বিভিন্ন মুভিং অবজেক্টের উপর সুইচ করতে হয় এবং এর ফলে ধীরে ধীরে তাদের এই অ্যাবিলিটি বৃদ্ধি পায়।

 

 

Share.

About Author