আপনি কি একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী? যদি হয়ে থাকেন তবে আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় যে ‘আপনি কেন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন?’ তবে আপনার উত্তরে নিশ্চয়ই আপনার প্রয়োজনের পাশাপাশি এমন কিছুও থাকবে যে ‘ইন্টারনেট হচ্ছে নানা রকম চমৎকার তথ্যের ভান্ডার’, নয় কি? আমরা সবাই ইন্টারনেটে নিজেদের প্রয়োজনীয় কাজ শেষে কিন্তু নেট সার্ফিং করে থাকি বিভিন্ন রকম তথ্য জানার জন্য। আর এরকম সার্ফ করতে করতেই একটি ব্লগ থেকে মাইক্রোসফটের বিভিন্ন ডিভাইসের ব্যাটারির লাইফ বৃদ্ধি করার একটি উদ্ভট আইডিয়া সম্পর্কে মাত্রই জানলাম, আর তাই প্রিয় টেকের পাঠকদের সাথে মাইক্রোসফটের সেই উদ্ভট এবং একই সাথে চমৎকার আইডিয়াটি শেয়ার করব। চলুন, শুরু করা যাক।

সম্প্রতি মাইক্রোসফটের ব্লগ থেকে জানা গিয়েছে মাইক্রোসফট তাদের ডিভাইস বিশেষ করে ল্যাপটপের ব্যাটারি লাইফ বৃদ্ধি করার জন্য একটি রিসার্চ  করছে। রিসার্চ থেকেই চমৎকার কিছু তথ্য জানা গিয়েছে। বর্তমানে আমরা ল্যাপটপে যে ব্যাটারি টেকনোলোজি ব্যবহার করছি তা বলতে গেলে বেশ খানিকটাই স্ট্রেট ফরোওয়ার্ড কাজ করে থাকে। ধরুন, আপনার একটি ল্যাপটপ আছে এবং সেই ল্যাপটপে আছে একটি বড় আকারের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি যা আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ব্যবহারের সময় খরচ হয়। এবং এই খরচের পরিমাণ তত বেশি হয় যতটুকু আপনি আপনার কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারগুলো কাজ করে থাকে।

সহজে বোঝাতে চাইলে আপনি যদি একটি গেম খেলতে শুরু করেন আপনার ল্যাপটপে তবে সেই গেমটি স্মুথলি রান করার জন্য আপনার কম্পিউটারের প্রসেসর এবং গ্রাফিক্স প্রোসেসিং ইউনিটটি তাদের সর্বোচ্চ দিয়ে থাকে এবং ফলে আপনার ল্যাপটপের ব্যাটারির উপরেও সেই প্রেসারটি পরে এবং ফলশ্রুতিতে আপনার ডিভাইসের ব্যাটারি বেশি খরচ হয়ে থাকে। অন্যদিকে আপনি যদি একটি ওয়ার্ড ডকুমেন্ট নিয়ে কাজ শুরু করেন তবে আপনার গ্রাফিক্স প্রসেসরটি আর কাজে আসেনা বা এটি এর সর্বনিম্ন গতিতে কাজ করতে থাকে, ফলে ব্যাটারির উপর থেকে প্রেশার কমে যায়।

বর্তমানে যে সকল প্রতিষ্ঠানগুলো ল্যাপটপের ব্যাটারি লাইফ বৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে খেয়াল করে দেখবেন তারা শুধু এর জন্য উচ্চ ক্ষমতা যুক্ত ব্যাটারিই যুক্ত করছে কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে খুব একটা ভালো ফলাফল তাতে পাওয়া যাচ্ছে না, কেননা প্রযুক্তি যত এগুচ্ছে ততই ল্যাপটপের ভিতরের ওয়ার্কিং কম্পোনেন্টগুলো বা কোর কম্পোনেন্টগুলোও আরও বেশি শক্তিশালী হচ্ছে। যেমন, বর্তমানের ল্যাপটপের প্রসেসর এবং জিপিএইগুলোই খেয়াল করে দেখুন। তাহলে ব্যাপারটা কি দাঁড়াচ্ছে? প্রতিষ্ঠানগুলো আপডেটেড এই শক্তিশালী কম্পোনেন্টগুলোকে সাপোর্ট দিতেই শক্তিশালী ব্যাটারি যুক্ত করতে বাধ্য হচ্ছে।

অফ টপিক: অন্য একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে যে গুগল সম্প্রতি একটি প্রজেক্ট বাদ দিয়েছে যেই প্রজেক্টটির মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন এক প্রকারের ব্যাটারি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে যুক্ত করার যা স্বাভাবিকের চাইতেও ৫ গুণ বেশি সাপোর্ট দিতে সক্ষম! প্রজেক্টটি বাদ দেয়ার কারণ, গুগলের মতে, “simply because the returns weren’t worth the investment.” 

02_microsoft_surface_lawn-00559_vs_r1d

আর বর্তমানের ল্যাপটপে থাকা ব্যাটারিগুলোর এই স্ট্রট ফরোওয়ার্ড কার্যপ্রণালী থেকেই বলা চলে মাইক্রোসফটের এই রিসার্চ শুরু এবং শেষ পর্যন্ত চমৎকার এই উদ্ভট আইডিয়াটি তারা প্রকাশ করেছে।

মাইক্রোসফটের তৈরি করা এই সল্যুশনটি যদিও এখনো প্রোটোটাইপ ফেসেই (phase) রয়েছে, এর অর্থ যদি এটি বাস্তবে ঘটেও থাকে তবে আপনাকে হয়তো অনেকটা সময় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। মাইক্রোসফটের এই রিসার্চ সম্পর্কে এর প্রন্সিপাল রিসার্চার রনভীর চন্দ্র একটি ব্লগ এন্ট্রিতে লিখেছেন,

Rather than waiting for the perfect battery, we’re using all the technology available right now.

সহজ ভাষায়, এই রিসার্চ অনুযায়ী আপনার অপারেটিং সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় ভাবেই ডিটেক্ট করতে সক্ষম হবে যে আপনি আপনার ডিভাইসে কী ধরণের কাজ করছেন এবং সেই অনুপাতেই আপনার ডিভাইসের ব্যাটারি ব্যবহার করবে যেন এভাবে আপনার ডিভাইসের ব্যাটারিটি সর্বোচ্চ সময় ধরে ব্যবহার করা যায়। কোন ডকুমেন্ট কাজ করলে এটি একাই চলে যাবে লংগার লাস্টিং ব্যাটারি মোডে এবং গেম খেয়াল্র সময় চলে আসবে শর্ট-লিভড মোডে যার ফলে আপনার হার্ডওয়্যারগুলো প্রয়োজন মত কাজ করতে পারবে, তবে ঠিক ততটুকুই যা আপনার অপারেটিং সিস্টেম স্বয়ংক্রিয় ভাবে ডিটেক্ট করে দিচ্ছে। ফলে, আপনি চমৎকার পারফরমেন্সের পাশাপাশি লং লাস্টিং ব্যাটারিও পাবেন।

apple battery

এই প্রযুক্তিকে যদি সত্যিই বাস্তবে আনা সম্ভব হয়ে থাকে তবে নিঃসন্দেহে এটি একটি খুবই চমৎকার টেকনোলোজি হিসেবেই প্রযুক্তি জগতে জায়গা করে নেবে। অবশ্য এই প্রযুক্তিটি বর্তমানেও আছে যার নাম হচ্ছে ‘মেশিন লার্নিং’ যা বর্তমানে মাইক্রোসফট তাদের ক্রেডিট-কার্ড-ফ্রড ডিটেকশনের জন্য ইন্টার্নালি ব্যবহার করে আসছে।  এই মেশন লার্নিং প্রযুক্তিটি মূলত আপনার ডিভাইস ব্যবহারের হ্যাভিট সম্পর্কে জানবে এবং সেভাবেই আউটপুট দিতে সক্ষম হবে। যেমন ধরুন, আপনি এমন একজন ল্যাপটপ ইউজার যার সকাল বিকাল ল্যাপটপ নিয়ে দৌড়াতে হয় তার এই হ্যাবিটগুলো সম্পর্কে (ইউজেস এবং চার্জিং হ্য্যাবিট) মেশিন জেনে ফেলবে এবং সেভাবেই আপনার আপনার ব্যাটারি চার্জের সময় প্রায়োরিটি হিসেবে আপনার ডিভাইসটি ফাস্ট-চার্জিং করবে ফলে আপনার প্রয়োজনের সময় আর কখনোই বিপদে পড়তে হবেনা আপনাকে।

উদ্ভট শোনাচ্ছে তাইতো? তবে এটি কাজও কিন্তু করতে পারে! এখন এই প্রযুক্তিটি কাজ করে কি না এটি শুধু সময়ের ব্যাপার।

 

তথ্য সূত্র – মাইক্রোসফট ব্লগ, বিসনেস ইনসাইডার 

Share.

About Author

Comments are closed.