মাঝে মাঝেই আমরা আমাদের ইন্টারনেটের স্বাভাবিক গতি কমে যায় এবং ফলে আমাদের সম্মুখীন হতে হয় বিভিন্ন সমস্যার, কেননা বর্তমানে ইন্টারনেটেই আমরা আমাদের কাজের প্রায় ৪০-৫০ শতাংশ কাজ করে ফেলি। তবে ইন্টারনেটের স্বাভাবিক এই গতি যদি হঠাত করে কমে যায় তবে আমরা চিন্তিত না হয়ে যদি ছোটখাটো কিছু বিষয়ের উপর নজর দেই তবে আমাদের এই সমস্যাগুলো আমরাই সমাধান করে ফেলতে পারি। আর এমনই সব ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করবে যেগুলো খুব সহজেই আপনাদের স্বাভাবিক ইন্টারনেটের গতি ফিরিয়ে আনবে বলেই আশা রাখছি। চলুন, শুরু করা যাক তাহলে। বাজে এক্সটেনশন আমরা আমাদের পছন্দের ব্রাউজারের সাথে ব্রাউজিং এক্সপেরিয়ন্সকে আরও রিচ করতে বা ব্রাউজিং প্রসেসকে আরও সহজ করতে বিভিন্ন ধরণের ব্রাউজারের এক্সটেনশন ব্যবহার করে থাকি। অনেকের হয়তো মনে হতে পারে এধরণের এক্সটেনশন শুধু আমাদের সাহায্যই করে থাকে কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে সাহায্য করার পাশাপাশি এমন কিছু এক্সটেনশন আছে যেগুলো আমাদের ইন্টারনেট স্পিডের বারোটাও বাজিয়ে দিতে পারে। তাই যদি এক্সটেনশন ব্যবহার করতেই হয় তবে সেই এক্সটেনশনটি রেপ্যুটেশন এবং রিভিউ দেখেই আমাদের সেটা ব্যবহার করা উচিৎ। আর আপনার ব্রাউজারের এক্সটেনশনের তালিকায় যদি এমন কোন এক্সটেনশন দেখতে পান যেগুলো আপনি ইন্সটল করেন নি, অন্য কোন সফটওয়্যারের সাথে ইন্সটল হয়ে গিয়েছে তবে আপনি যত দ্রুত সম্ভব সেই এক্সটেনশনগুলো মুছে দিন। এছাড়াও আপনার ইন্সটল করা এক্সটেনশনগুলোর মধ্যে যদি এমন কিছু থাকে যা আপনি সচরাচর ব্যবহার করেন না বললেই চলে তবে সেই এক্সটেনশনটিও মুছে দিন। কেননা এই এক্সটেনশনগুলো শুধু আপনার নেট স্পিডই নয় বরং আপনার কম্পিউটারের র‍্যাম রিসোর্সও ব্যবহার করে থাকে। যদি এখনো আমার কথা বিশ্বাস না করে থাকনে তবে ক্রোমের টাস্ক ম্যানেজারে গিয়ে দেখতে পারেন আপনার এস্কটেনশনগুলো কি করছে না করছে।

chrome-task-manager
অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম

কিছু বাজে অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম রয়েছে যেগুলো আপনার সমগ্র কম্পিউটারকেই স্লো করে ফেলে, তবে সেই ধীরগতিটা আপনি বোঝেন ব্রাউজিং করার সময় কেননা ব্রাউজিং প্রসেস এমনিতেই র‍্যাম রিসোর্স বেশি ব্যবহার করে থাকে। আর যখন আপনার সমগ্র কম্পিউটারই ধীর গতির কাজ করছে তখন র‍্যাম রিসোর্স হাংরি ব্রাউজারগুলো যে এমনিতেই আরও ধীর গতিতে কাজ করবে সেটা বুঝে নেওয়া কোন রকেট সায়েন্সতো নয়। আবার অনেক অ্যান্টিভাইরাসের ইন্টারনেট সিকিউরিটি ভার্সনগুলো ব্রাউজারের প্রতিটি এক্সটেনশন, বা পেজ সব পরীক্ষা করে আপনাকে সেই পেজটি প্রদর্শন করে, ফলে স্বাভাবিক ভাবেই কমে যায় আপনার ইন্টারনেট স্পিড। এটাতো গেল ইন্টারনেট ব্যবহারের কথা, সামান্য কপি-পেস্টেই বাজে অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রামগুলো আপনার কম্পিউটারটিকে ধীর গতির করে ফেলে, বিশ্বাস না হলে নিচের এভি টেস্টের ফলাফলটি দেখতে পারেন।

av-test-speeds
ডায়াবলিকাল ডিএনএস

ইন্টারনেটের জন্য একটি ডিএনএস (ডায়নামিক নেম সার্ভার) হচ্ছে একটি ফোন বুকের মত। এটি আপনার কম্পিউটারকে বলে দেয় যে আপনার ব্রাউজারের অ্যাড্রেসবারে এন্ট্রি করা ইউআরএলটি ঠিক কোথায় খুঁজতে হবে। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে এটির আপনার ব্রাউজিং স্পিড বা ব্রাউজিং এক্সপেরিয়ন্সের সাথে কোন সম্পর্কে নেই তবে আপনি জেনে অবাক হবেন যে আপনার লোকেশনের সাথে ম্যাচ করে বেস্ট ডিএনএ সেট করলে আপনার ব্রাউজিং স্পিডে আপনি সিগনিফিসেন্ট পরিবর্তন পেতে পারেন।

internet-directory
ব্রাউজিং ডাটা

আমাদের ব্রাউজারগুলো বিভিন্ন কারণে অনেক বড় অ্যামাউন্টের ব্রাউজিং ডাটা সংরক্ষণ করে রাখে। এর ফলে আপনার প্রাইভেসি ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া ছাড়াও আপনার ব্রাউজিং স্পিডও ধীর গতির হতে পারে। তাই আপনি ব্রাউজিং ডাটা ক্লিয়ার করেও কিছুটা ভালো স্পিড পেতে পারেন।

browsing-history

শেষ কথা

এসব ছোটখাটো আরও অনেক বিষয় থাকতে পারে যা এমুহুর্তে আমার মাথায় আসছে না তবে আমি উপরের পয়েন্টগুলো থেকে উপকৃত হয়েছিলাম দেখে আপনাদের সাথেও শেয়ার করলাম। আশা করি কাজে আসবে আপনাদেরও।

Share.

About Author

Comments are closed.