জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্কও আজকাল নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের। নতুনত্বের নামে শুধু নকশায় খানিকটা পরিবর্তন এনে গত মাসে আইফোন ৮ উন্মোচন করে সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। একই অনুষ্ঠানে মাসখানেকের ব্যবধানে আইফোন ১০ বাজারে ছাড়ারও ঘোষণা দেয় অ্যাপল। তাতেও সৃষ্টি হয়েছে নানা বিতর্কের। বলা হচ্ছে, নতুন সংযোজন হিসেবে আইফোন ১০-এ যে সুবিধাগুলো রয়েছে, তার বেশির ভাগই বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ইতিমধ্যে যোগ করা হয়েছে। তারহীন চার্জ সুবিধা, ওএলইডি পর্দা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
অ্যাপলের খবরভিত্তিক জনপ্রিয় ফোরাম ম্যাকরিউমারস সম্প্রতি জানিয়েছে, স্যামসাং নোট সিরিজের মতো বড় পর্দার ফোনের সঙ্গে স্টাইলাস পেনের মতো ডিজিটাল কলমসহ আইফোন আনছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপল পেনসিলসহ ফ্যাবল্যাট ধরনের ফোন বাজারে উন্মোচন করতে পারে। এমনকি এ নিয়ে অ্যাপলের প্রকৌশলীরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া নতুন অ্যাপল পেনসিল তৈরির জন্য বেশ কিছু প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অ্যাপল কথা বলেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ গুজব যদি সত্য হয়, তবে আগামী বছর ৬ দশমিক ৪৬ ইঞ্চির একটা বড়সড় আইফোন আসবে বাজারে। তবে এ-ও তেমন নতুন কিছু নয়। বাজারে ইতিমধ্যে এমন ফোন অনেক রয়েছে।
এদিকে বড় পর্দার আইফোনের ঘোর বিরোধী ছিলেন অ্যাপলের স্বপ্নদ্রষ্টা ও সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস। এমনকি আইফোনে ডিজিটাল কলমের ব্যবহারেও আপত্তি জানিয়েছিলেন তিনি। এক দশক আগে আইফোনের প্রথম সংস্করণ উন্মোচন করার সময়ই তিনি এই ধারণার উপহাস করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মানুষ একসময় পুরোপুরিই স্মার্টফোননির্ভর হয়ে পড়বে। তবে তার মানে এই নয়, সব কাজ ফোনেই করতে হবে। আইফোন এমন একটি স্মার্টফোন, যা ব্যবহার করতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। কিন্তু স্টিভের সেই বারণ মানেনি অ্যাপল। বড় পর্দার প্লাস ফোনগুলো এখন অ্যাপলের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। ভবিষ্যতে আরও বড় পর্দার আইফোন বাজারে আনার সিদ্ধান্ত যদি অ্যাপল নিয়েই থাকে, তবে তা স্টিভের মতাদর্শের বিপরীত।
সূত্র: ম্যাশেবল

Share.

About Author