তরুণদের জন্য নতুন ব্যবসায় উদ্যোগ (স্টার্টআপ) নিয়ে ‘স্টার্টআপ চ্যালেঞ্জ’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ (আইসিটি)। গত ২১ জুন রাজধানীর বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্টার্টআপ চ্যালেঞ্জ ২০১৭-এর চূড়ান্ত পর্ব। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে ২০টি উদ্ভাবনী প্রকল্প। বিজয়ীরা আর্থিক সহায়তা ছাড়াও গাজীপুরের কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক ও যশোরে শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে কাজের জায়গা পাবে। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তিন উদ্যোগ নিয়ে এই প্রতিবেদন।

ট্রাক লাগবে
পণ্য পরিবহনের জন্য অনেক সময় ট্রাকের প্রয়োজন হয়। কিন্তু হাতের কাছে ট্রাক মিলবে কোথায়? নিজে গিয়ে ভাড়া করার ঝক্কিও কম নয়। ট্রাক ভাড়া করার সহজ সমাধান ‘ট্রাক লাগবে’। এটি মূলত স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) নির্ভর পণ্য পরিবহনসেবা। ট্রাকমালিক বা ট্রাক এজেন্সির সঙ্গে সেবাগ্রহীতার যোগসূত্র তৈরি করে দেবে ‘ট্রাক লাগবে’ অ্যাপটি।

অ্যাপের মূল উদ্যোক্তা মীর হোসাইন ইকরাম ও এনায়েত রশিদ। অ্যাপনির্ভর ব্রিলিয়ান্ট আইডিয়াস লিমিটেডের অংশীদার মোট সাতজন। কথা হয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনায়েত রশিদের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘আমাদের ধারণাটা খুবই সাদামাটা। ট্রাকমালিক ও সেবাগ্রহীতা—দুই পক্ষই এর মাধ্যমে উপকৃত হবেন। সময়ও বাঁচবে।’

এই নেটওয়ার্কে নিবন্ধিত থাকবেন ট্রাকমালিক ও সেবাগ্রহীতাও। দুই পক্ষই আগাম জানতে পারবে, তার শহর থেকে কোন ট্রাক কখন, কোথায় যাবে বা কার পণ্য পরিবহনসেবা দরকার।

অনেক সময় ট্রাকে পণ্য তুলে দেওয়ার পর দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। ট্রাকচালক ঠিক ঠিক পণ্য পৌঁছে দেবেন তো? অ্যাপের মাধ্যমে সেবা নিলে সেবাগ্রহীতা অনেকখানি চিন্তামুক্ত থাকতে পারবেন। কারণ, তিনি জানতে পারবেন, চালকসহ ট্রাকমালিকের বিস্তারিত তথ্য এবং তাঁর পণ্য নিয়ে ট্রাকটি এখন কোথায় অবস্থান করছে, সেটাও।

অ্যাপটি এখনো বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়নি। এনায়েত রশীদ জানালেন, তাঁরা ৭ জুলাই অ্যাপটি প্রকাশ করবেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে ট্রাক লাগবে অ্যাপটি।


মেডিটর

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার প্রযুক্তিগত সমাধান ‘মেডিটর’। চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেবে এটি। চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপত্র, টেলিমেডিসিন ও অনলাইন পরামর্শ, হাসাপাতাল, ওষুধ নির্দেশিকা, স্বাস্থ্য টিপস—সবই মেডিটরের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। এর প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর আলম খান। জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসকের সাক্ষাৎ সহজে পাওয়া যাবে মেডিটরের মাধ্যমে। আমাদের সেবা বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে ফোন, অনলাইন ও স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে যে কেউ চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।’ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে মেডিটর।


হ্যান্ডিমামা

স্টার্টআপ চ্যালেঞ্জে তৃতীয় হয়েছে হ্যান্ডিমামা। নতুন এই উদ্যোগ পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ইলেকট্রিশিয়ান, রংমিস্ত্রি, ধোপা থেকে শুরু করে বাসা বদলের কর্মীও সরবরাহ করে থাকে। হ্যান্ডিমামার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ পরান বলেন, ‘মানুষের জীবনযাপন সহজ করে তুলতেই আমাদের সকল সেবা। রাজধানীতে অনলাইন ও অফলাইনে যে কেউ আমাদের সেবা নিতে পারেন। আমরা চেষ্টা করি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে সেবাগ্রহীতার কাছে পৌঁছাতে।’

তাঁর কাছেই জানা গেল, ২০১৫ সালের মে মাসে যাত্রা শুরু করে হ্যান্ডিমামা। এরই মধ্যে মানুষের কাজ থেকে বেশ সাড়াও পেয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির এমন ব্যতিক্রমধর্মী নাম দেখে মনের মধ্যে উসখুস করছিল। সেটা খোলাসা করলেন হ্যান্ডিমামার অপারেশন ইনচার্জ রাফায়াত সানী। জানালেন, বাংলাদেশের বহুল প্রচলিত সম্বোধনের শব্দ মামা ও হ্যান্ডিমামাদের হ্যান্ডি নিয়ে বাংলা ও ইংরেজির ফিউশনে ‘হ্যান্ডিমামা’ নামটি নেওয়া হয়েছে।

বিজয়ী ২০ উদ্যোগ

প্রতিযোগিতায় ট্রাক লাগবে, মেডিটর, হ্যান্ডিমামা ছাড়াও বিজয়ী হয়েছে শপ-আপ, স্নাইফার, অ্যাডভান্স ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম, ডিজিটালাইজ লন্ড্রি ইন্ডাস্ট্রি, গারবেজম্যান, মোবাইল ম্যানেজার ফর রিটেইল শপ, অ্যাডভান্স ভেহিকল সিকিউরিটি সিস্টেম, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বেইজড প্রাইজ কম্পারিজন ইঞ্জিন, ক্যারিয়ার বট, সিএমইডি, ম্যানুফ্যাকচার অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন অব ইন্ডিজেনাসলি ডেভেলপড অ্যান্ড টেস্টেড টেলিমেডিসিন সিস্টেম প্যাকেজ, অ্যাপ বাজার, ট্রাক চাই, ফিট ফাইন্ডার, হিরোজ অব ৭১ মুক্তিক্যাম্প, হ্যাস্টেক ও অ্যাডমিশন নিনজা।

Share.

About Author