প্রিন্ট সংস্করণ

বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন দেশে আইনি বিষয়, নিরাপত্তাসহ নানা কারণে অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সিসেবা উবারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় নতুন দুঃসংবাদ এল প্রতিষ্ঠানটির কাছে। গত বুধবার উবারের বার্ষিক রাজস্ব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের প্রথম তিন মাসে ৭০ কোটি ডলারের বেশি লোকসান করেছে উবার। তবে লোকসান নিয়ে মাথাব্যথা নেই উবারের বিনিয়োগকারীদের।
বিনিয়োগকারীদের মতে, উবার এই ক্ষতি শিগগিরই কাটিয়ে উঠবে। গত বছর যেখানে উবারের লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় হাজার কোটি ডলার, সেখানে এ বছরের প্রথম প্রান্তিকেই এর পরিমাণ কমায় সাধুবাদ জানাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। উবারের শুরু থেকে বিনিয়োগ করে আসা জেসন ক্যালকানিস এক টুইট বার্তায় আগের ক্ষতির অঙ্ক কমিয়ে আয় বৃদ্ধির জন্য উবারকে শুভেচ্ছা জানান। এ ছাড়া রাজনৈতিক পরামর্শদাতা ও উবারে বিনিয়োগকারী ব্র্যাডলি টাস্ক বলেন, উবারের এই ধারাটি তাঁর ভালো লেগেছে, রাজস্ব বৃদ্ধি আর লোকসান কমা।
এদিকে বাজার বিশ্লেষক জেমস ক্যাকম্যাক টুইটার, স্ন্যাপ (স্ন্যাপচ্যাটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান) ও টেসলার বাজার চিত্র দেখিয়ে বলেন, টুইটার ২০১৩ সালের আগে কখনোই লাভের মুখ দেখেনি। এ ছাড়া স্ন্যাপ এখনো ২০০ কোটি ডলারের বেশি লোকসান গুনছে। আর টেসলা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মূল্যবান গাড়িনির্মাতা হয়েও লোকসান সামাল দিতে বড় অঙ্কের মূলধন জমা করছে। জেমস আরও বলেন, কোনো কিছু অর্জন করতে হলে ঝুঁকি তো নিতেই হবে, আর এখন সেটাই করছে উবার।
তবে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় উবার এমন লোকসানের শিকার হচ্ছে। উবারের একজন সাবেক বিনিয়োগকারী মাইক ওয়ালশ বলেন, অ্যামাজনসহ অনেক প্রতিষ্ঠানই সর্বজনীন বিনিয়োগের আগে লোকসানের পথে হেঁটেছে। কিন্তু অ্যামাজন পাবলিক বিনিয়োগের এক বছরের মধ্যেই বিপুল মুনাফা অর্জন করতে শুরু করে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো সর্বজনীন বিনিয়োগ চালু করলে উবার দ্রুতই এই লোকসান থেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচবে বলে ধারণা বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের।

সূত্র: সিএনএন

Share.

About Author