গাড়ি মানেই চালক—এ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে খ্যাতনামা অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। চালকবিহীন, মানে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বানাতে এ মাসেই যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াইমো ও ইন্টেল। একই প্রকল্প হাতে নিতে চায় জাপানের গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ‘হোন্ডা’ ও ‘মাজদা’। তাদের বানানো চালকবিহীন গাড়ি বাজারে আসতে আসতে হয়তো ১০-১২ বছর লাগবে।

‘সায়েন্স ফিকশন’ সিনেমায় নানা প্রযুক্তিগত সুবিধাসম্পন্ন গাড়ি আমরা দেখি। অনেকে ভাবতে পারে, তাহলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-সংবলিত গাড়ি বোধ হয় বাজারে নেই? ভুল। ভবিষ্যতের কিছু প্রযুক্তি এখনই জুড়ে দেওয়া হয়েছে গাড়িতে, যা কিনতে পাওয়া যাচ্ছে শো-রুমেও। আসুন জেনে নিই এখনকার অত্যাধুনিক গাড়িতে জুড়ে দেওয়া ভবিষ্যতের পাঁচ প্রযুক্তি:

ঝিমিয়ে পড়লে জাগিয়ে দেবে
লং ড্রাইভে বের হলে কিংবা একটি কর্মক্লান্ত দিন শেষে বাড়ি ফেরার সময় গাড়ি চালাতে গিয়ে কিছুটা ঝিমুনি আসাই স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে গাড়ি যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দেয় আপনি ক্লান্ত, কিছুটা বিশ্রাম নিন, তাহলে কেমন হয়? মার্সিডিজ বেঞ্জের গাড়িতে সংযোজন করা হয়েছে ‘অ্যাটেনশন অ্যাসিস্ট’ নামের এ প্রযুক্তি। অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তিটি শুধু চালকের ঝিমুনি নয়, বরং চালানোর ক্ষেত্রে ভুল-ভ্রান্তিও শুধরে দেবে। হঠাৎ একটি ‘ব্রেক’ কিংবা চকিত মোড় নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল শুধরে দেবে এ প্রযুক্তি। চালকের গাড়ি চালানোর কিছু বৈশিষ্ট্য ধারণ করে তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আপনাকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করবে ‘অ্যাটেনশন অ্যাসিস্ট’।

স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত গিয়ারবক্স
দ্রুতগতির সঙ্গে বিলাসবহুল গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রোলস রয়েস অন্যতম। ২০১৩ ‘রোলস রয়েস রেইথ’ মডেলের গাড়ি বাজারে ছাড়ে ব্রিটিশ এ অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান। এটাই প্রথম গাড়ি, যেখানে রয়েছে স্যাটেলাইট এইডেড ট্রান্সমিশন (এসএটি) সুবিধা। এ প্রযুক্তির সুবিধা হলো, উইন্ডশিল্ডের ভেতর দিয়ে চালক পথের যে পর্যন্ত দেখতে পান, তা ছাড়িয়ে সামনের অদেখা পথটুকুও বিশ্লেষণ করবে ‘এসএটি’ প্রযুক্তি। ‘জিপিএস ডাটা’ ব্যবহার করে ভ্রমণপথে যেকোনো সময়ে গাড়ির গিয়ার ঠিক রাখাই কাজ এ প্রযুক্তির। এতে ভ্রমণটা হয়ে ওঠে মসৃণ ও আরামদায়ক।

তারবিহীন চার্জিং সুবিধা
মোবাইল ফোনে তারবিহীন চার্জিং সুবিধা দেখে বিস্মিত হলে আপনি আধুনিকতার দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন! জার্মান অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অদি’র ‘এ-৮ ই-টর্ন’ মডেলের গাড়িতে সংযুক্ত করা হয়েছে তারবিহীন চার্জিং সুবিধা। বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা গাড়িটির তারবিহীন চার্জিং সুবিধাও বেশ অভিনব। গ্যারেজে যেখানে গাড়ি রাখেন, সেখানে চার্জারটি রেখে দিন। গাড়ি পার্কিং করার সময় চার্জারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে গাড়ির নিচে চার্জার পোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। পূর্ণমাত্রায় চার্জ হওয়ার পর আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চার্জারটি খুলে যাবে।

রিমোট পার্কিং
গাড়ি থেকে নামার পর কোনো কাজে আটকে গেছেন। গাড়িটা আর সঠিক জায়গায় পার্ক করা হয়নি। বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজের গাড়ি হলে চিন্তার কিছু নেই। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাসম্পন্ন চাবির গোছা দিয়েই আপনি গাড়ি পার্কিংয়ের কাজটি সারতে পারেন, সেটাও দূর থেকে! অনেকটাই জেমস বন্ডের মতো। তবে জেমস বন্ডের মতো দূরে থেকে অন্য গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবেন না। গাড়িকে শুধু সামনে ও পেছনে নিতে পারবেন।

মার্সিডিজ বেঞ্জের এ গাড়িতে রয়েছে ‘অ্যাটেনশন অ্যাসিস্ট’ সুবিধা। ছবি: মার্সিডিজ বেঞ্জ
গাড়ি মানেই চালক—এ ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে খ্যাতনামা অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। চালকবিহীন, মানে স্বয়ংক্রিয় গাড়ি বানাতে এ মাসেই যৌথভাবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াইমো ও ইন্টেল। একই প্রকল্প হাতে নিতে চায় জাপানের গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান ‘হোন্ডা’ ও ‘মাজদা’। তাদের বানানো চালকবিহীন গাড়ি বাজারে আসতে আসতে হয়তো ১০-১২ বছর লাগবে।

‘সায়েন্স ফিকশন’ সিনেমায় নানা প্রযুক্তিগত সুবিধাসম্পন্ন গাড়ি আমরা দেখি। অনেকে ভাবতে পারে, তাহলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-সংবলিত গাড়ি বোধ হয় বাজারে নেই? ভুল। ভবিষ্যতের কিছু প্রযুক্তি এখনই জুড়ে দেওয়া হয়েছে গাড়িতে, যা কিনতে পাওয়া যাচ্ছে শো-রুমেও। আসুন জেনে নিই এখনকার অত্যাধুনিক গাড়িতে জুড়ে দেওয়া ভবিষ্যতের পাঁচ প্রযুক্তি:

ঝিমিয়ে পড়লে জাগিয়ে দেবে
লং ড্রাইভে বের হলে কিংবা একটি কর্মক্লান্ত দিন শেষে বাড়ি ফেরার সময় গাড়ি চালাতে গিয়ে কিছুটা ঝিমুনি আসাই স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে গাড়ি যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দেয় আপনি ক্লান্ত, কিছুটা বিশ্রাম নিন, তাহলে কেমন হয়? মার্সিডিজ বেঞ্জের গাড়িতে সংযোজন করা হয়েছে ‘অ্যাটেনশন অ্যাসিস্ট’ নামের এ প্রযুক্তি। অত্যাধুনিক এ প্রযুক্তিটি শুধু চালকের ঝিমুনি নয়, বরং চালানোর ক্ষেত্রে ভুল-ভ্রান্তিও শুধরে দেবে। হঠাৎ একটি ‘ব্রেক’ কিংবা চকিত মোড় নেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল শুধরে দেবে এ প্রযুক্তি। চালকের গাড়ি চালানোর কিছু বৈশিষ্ট্য ধারণ করে তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে আপনাকে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করবে ‘অ্যাটেনশন অ্যাসিস্ট’।

রোলস রয়েস ‘রেইথ’ মডেলের গাড়িটি বিশ্লেষণ করে দেবে সামনের অদেখা পথটুকু। ছবি: কারস ডটকম
স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত গিয়ারবক্স
দ্রুতগতির সঙ্গে বিলাসবহুল গাড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রোলস রয়েস অন্যতম। ২০১৩ ‘রোলস রয়েস রেইথ’ মডেলের গাড়ি বাজারে ছাড়ে ব্রিটিশ এ অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান। এটাই প্রথম গাড়ি, যেখানে রয়েছে স্যাটেলাইট এইডেড ট্রান্সমিশন (এসএটি) সুবিধা। এ প্রযুক্তির সুবিধা হলো, উইন্ডশিল্ডের ভেতর দিয়ে চালক পথের যে পর্যন্ত দেখতে পান, তা ছাড়িয়ে সামনের অদেখা পথটুকুও বিশ্লেষণ করবে ‘এসএটি’ প্রযুক্তি। ‘জিপিএস ডাটা’ ব্যবহার করে ভ্রমণপথে যেকোনো সময়ে গাড়ির গিয়ার ঠিক রাখাই কাজ এ প্রযুক্তির। এতে ভ্রমণটা হয়ে ওঠে মসৃণ ও আরামদায়ক।

তারবিহীন চার্জিং সুবিধা
মোবাইল ফোনে তারবিহীন চার্জিং সুবিধা দেখে বিস্মিত হলে আপনি আধুনিকতার দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছেন! জার্মান অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অদি’র ‘এ-৮ ই-টর্ন’ মডেলের গাড়িতে সংযুক্ত করা হয়েছে তারবিহীন চার্জিং সুবিধা। বাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা গাড়িটির তারবিহীন চার্জিং সুবিধাও বেশ অভিনব। গ্যারেজে যেখানে গাড়ি রাখেন, সেখানে চার্জারটি রেখে দিন। গাড়ি পার্কিং করার সময় চার্জারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়ে গাড়ির নিচে চার্জার পোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। পূর্ণমাত্রায় চার্জ হওয়ার পর আবার স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চার্জারটি খুলে যাবে।

অদির এ গাড়িতে রয়েছে তারবিহীন চার্জিং সুবিধা। ছবি: ইলেকট্রিক কারস
রিমোট পার্কিং
গাড়ি থেকে নামার পর কোনো কাজে আটকে গেছেন। গাড়িটা আর সঠিক জায়গায় পার্ক করা হয়নি। বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজের গাড়ি হলে চিন্তার কিছু নেই। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাসম্পন্ন চাবির গোছা দিয়েই আপনি গাড়ি পার্কিংয়ের কাজটি সারতে পারেন, সেটাও দূর থেকে! অনেকটাই জেমস বন্ডের মতো। তবে জেমস বন্ডের মতো দূরে থেকে অন্য গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবেন না। গাড়িকে শুধু সামনে ও পেছনে নিতে পারবেন।

দূরে থেকেও পার্কিং করতে পারবেন বিএমডব্লিউয়ের এ গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত
রাডার-নিয়ন্ত্রিত ক্রুজ-কন্ট্রোল
হাইওয়েতে গাড়ি চালানোর সময় ভীষণ কাজে লাগে এ প্রযুক্তি। গাড়ির সামনে রাডার-নিয়ন্ত্রিত ক্রুজ-কন্ট্রোল থাকলে দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা কম। কেননা, সামনের গাড়িটির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই এ প্রযুক্তির কাজ। সামনের গাড়িটির গতিবেগও জানিয়ে দেবে রাডার ক্রুজ-কন্ট্রোল। এতে ঠিক কতটুকু পেছনে থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কম, সেটাও মেপে বলে দেবে প্রযুক্তিটি।

Share.

About Author