আইফোনের হার্ডওয়্যার যন্ত্রের স্থায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদি হলেও কয়েক বছরের মধ্যে এর কার্যক্ষমতা ধীরগতির হতে শুরু করে—স্মার্টফোনটির ব্যবহারকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই এমন অভিযোগ করে আসছেন। বেশির ভাগেরই ধারণা, নতুন সংস্করণের আইফোন বাজারে এলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপলই পুরোনো আইফোনের সফটওয়্যারগত কার্যক্ষমতা ধীরগতির করে দেয়। ফলে ব্যবহারকারীরা বাধ্য হতেন নতুন সংস্করণের আইফোন কিনতে।

বেশ পরে হলেও অ্যাপল সম্প্রতি এ অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে আইফোন ৬ ও ৬ এস এবং ৭-এর গতি হুট করে কমে যাচ্ছে এমন অভিযোগ আসতে শুরু করে। গত বুধবার প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া এক বিবৃতিতে পুরোনো মডেলের আইফোনের গতি ধীর হওয়ার কথা স্বীকার করে এর পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যাপল কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি আইফোন কয়েক বছর ব্যবহৃত হলে ইচ্ছাকৃতভাবেই এর প্রসেসরের ক্লক স্পিড কমিয়ে দেওয়া হয়। তবে সেটি কেন করা হয়? উত্তরে তারা বলে, আইফোনের অ্যালগরিদম এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও ফোনের ব্যাটারি সন্তোষজনক কার্যক্ষমতা দেখাতে পারে। তবে প্রযুক্তির নতুন নতুন সংস্করণ ও সফটওয়্যার হালনাগাদের ফলে একসময় ফোনের ব্যাটারি এবং প্রসেসর নতুনের মতো আর কার্যক্ষম থাকে না। তাই আইফোন ব্যবহারকারীদের যেন কোনো বাজে অভিজ্ঞতা না হয়, তাই নতুন সংস্করণের আইফোন নিতে ধীরগতি করে দেওয়ার কাজটি করে থাকে অ্যাপল।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, গ্রাহকদের সবচেয়ে ভালো কার্যক্ষমতার আইফোন দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এর মধ্যে সার্বিক কার্যক্ষমতা ও যন্ত্র দীর্ঘস্থায়ী করার বিষয় রয়েছে। শীতল আবহাওয়ায় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি চাহিদার থেকে কম শক্তি সরবরাহ করে। অনেক দিন ব্যবহারের পর ব্যাটারির চার্জ কম থাকে। যার কারণে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশগুলো রক্ষা করতে যন্ত্রটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে আইফোন ৬ ও ৬ এস এবং ৭-এ ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের কোনো কিছুই করা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে অ্যাপল। নতুন কিছু সফটওয়্যার হালনাগাদের কারণে এ ফোনগুলো ধীরগতির হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তারা।

Share.

About Author