জাপানি গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিনটেনডোর হাইব্রিড ভিডিও গেম খেলার যন্ত্র (কনসোল) সুইচ বাজারে আসার পর থেকেই বিক্রির রেকর্ড গড়ে চলেছে। যদিও প্রথম যখন সুইচের ঘোষণা দেওয়া হয়, তখন অনেকেই এর জনপ্রিয়তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কনসোলটির এমন বিক্রির হার বিশেষজ্ঞদের কাছে বিস্ময়ের বিষয়। কারণ এর দাম ধরা হয়েছিল ২৯৯ ডলার, যা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রাখতে পারত। সুইচকে যেখানে এক্সবক্স ওয়ান ও প্লে স্টেশন-৪-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়, সেখানে দুটিরই দাম কম। এ ছাড়া নিনটেনডো সুইচের গেমের তালিকাও ছিল অন্যগুলোর চেয়ে কম। তারপরও সুইচ বাজারে আসার পর বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আর নিনটেনডোও বেশ উঠে পড়েই লাগে কনসোলটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে। আর এ জন্যই গেমপ্রেমীদের কাছে নিত্যদিনের উপকরণ হিসেবেই শোভা পাচ্ছে গেম খেলার এ যন্ত্র। নিনটেনডো সুইচের কয়েকটি সুবিধার কথা থাকছে এখানে—

কাজ করে দ্রুত
সুইচ ব্যবহার করার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এটি খুব দ্রুত কাজ করে। এক্সবক্স ওয়ান বা প্লে স্টেশন-৪ ব্যবহার করতে বিরক্তির অভিজ্ঞতা প্রায়ই হয়। কিন্তু সুইচ বেশ দ্রুত কাজ করে এবং ব্যবহার করতেও সহজ। গেমের যেকোনো সময় হোম বোতাম চেপে সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে ড্যাশবোর্ডে আসা যায়। যদিও এই সুবিধা এক্সবক্স ওয়ান ও প্লে স্টেশন-৪-এ আছে, কিন্তু তা সুইচের মতো এত দ্রুত নয়। নিনটেনডোর এই কনসোল ব্যবহারকারীকে অনেকাংশেই স্মার্টফোন ব্যবহারের অভাব পূরণ করবে।

স্লিপ মুড সুবিধা
স্মার্টফোন ব্যবহারের প্রবণতা ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশি থাকে, কারণ খুব সহজেই এটি চালানো যায়। যেকোনো সময় পকেটে নেওয়া যায়। চোখের পলকেই চালু করা যায় এবং যখন ইচ্ছা তা ব্যবহার করতে করতেই বন্ধ করা যায়। আর এই দিকটি বিবেচনা করেই কনসোলটিতে স্লিপ মুড যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারী এটিকে ল্যাপটপ বা ট্যাবের মতো ব্যবহার করতে পারবেন। স্লিপ মুড চালু করলেই কনসোলটিতে খুব কম ব্যাটারি খরচ হবে। তা ছাড়া কনসোলটিতে যে অবস্থায় স্লিপ মুড চালু করা হবে, ঠিক সেই অবস্থাতেই ফিরে আসবে মুডটি বন্ধের পর। এই সুবিধা এক্সবক্স ওয়ান ও প্লে স্টেশন-৪-এ আছে, তবে সুইচে সুবিধাটি নিখুঁতভাবে কাজ করে।



সহজেই গেম নামানো ও হালনাগাদ করা যায়

একজন গেম প্রেমিকের কাছে নিনটেনডো সুইচ ব্যবহারের আত্মতৃপ্তি আনবে এর গতি। কারণ কনসোলটি চালু করা এবং একটি গেম খুলতে খুব একটা সময় লাগে না। এর চেয়েও আনন্দের বিষয় কনসোলটির গেম নামানো এবং সর্বশেষ সংস্করণে হালনাগাদ করে নেওয়ার সুবিধা। একজন গেমার চাইলেই সুইচে একসঙ্গে কয়েকটা গেম নামাতে পারবেন। আর যদি কোনো গেমের হালনাগাদের প্রয়োজন পরে, তাহলে গেম চালু অবস্থাতেই সর্বশেষ সংস্করণ হালনাগাদ করে নিতে পারবেন।

জীবনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়
মনোযোগ আকর্ষণ করার মতো নিনটেনডো সুইচের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, আপনি চাইলেই এটি নিজ ঘরে বন্ধুদের সঙ্গে টিভিতে সংযুক্ত করে যেমন খেলতে পারবেন, তেমনি আবার স্মার্টফোনের মতো বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকেও খেলতে পারবেন। আপনি হয়তো নিজ ঘরে সুইচকে ডকে রেখে টিভিতে খেলছেন। কিন্তু হুট করে আপনার বাইরে যেতে হচ্ছে। তখন শুধু সুইচের স্লিপ মুড চালু করতে হবে এবং সঙ্গে নিলেই হবে। কাজ শেষ হওয়ার পর কনসোলটি চালু করলেই ঠিক যেখানে গেম ছেড়েছিলেন, ঠিক সেখান থেকেই শুরু করতে পারবেন। তা ছাড়া এটি স্মার্টফোনের মতো খুব সহজেই বহন করা যায়। ফলে গেমারদের নিত্যদিনের সঙ্গী হিসেবে খুব সহজেই মানিয়ে নেয় নিনটেনডো সুইচ।

বিল্ট-ইন স্ক্রিন শট বোতাম
কনসোলটির আরেকটি চমৎকার বৈশিষ্ট্য, এটিতে বিল্ট-ইন স্ক্রিনশট বোতাম আছে। আর এটি খুব দ্রুত কাজ করে। যেকোনো গেম খেলার সময় খুব সহজেই যেকোনো দৃশ্যের স্ক্রিনশট নেওয়া যায়। পরে মাইক্রো এসডি মেমোরি কার্ডে করে স্ক্রিনশটগুলো নেওয়া যাবে। তা ছাড়া সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার সুবিধাও থাকছে। মূলত ভিডিও গেম নিয়ে যাঁরা লেখালেখি করেন, তাঁদের জন্য এটি বেশ কাজের বস্তু।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

Share.

About Author