তানিয়া (ছদ্মনাম) কাজ করেন তৈরি পোশাক কারখানায়। কর্মক্ষেত্রে প্রায়ই তাঁকে নানান বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। কিন্তু সব সময় যে প্রতিবাদ করতে পারেন তা নয়। চাকরি হারানোর ভয়ে ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের কথা অনেক সময়ই মুখ বুজে সহ্য করেন। এমন সমস্যা শুধু যে তানিয়ার তা নয়, কর্মক্ষেত্রে এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় অনেককেই। কর্মস্থলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সহায়তা করবে ‘কুটুম্বিতা’ নামের একটি স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ)।

কীভাবে?
অনভিপ্রেত ঘটনার শুরু কীভাবে তা জানা যাবে এই অ্যাপের সহায়তায়। বর্তমানে অ্যাপটির যে সংস্করণ রয়েছে তা থেকে ছবি ধারণ করে অ্যাপের মাধ্যমেই কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা যায়। তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করে ধারণ করা ভিডিও কিংবা অডিও প্রমাণ দিয়েও অভিযোগ করা যায়। অভিযোগের পুরো প্রক্রিয়াটাই গোপন থাকবে। অ্যাপটির নির্মাতা দলের সদস্যরা জানালেন, আগামী মাসেই অ্যাপটির নতুন সংস্করণ প্রকাশ হবে। এতে যোগ করা হচ্ছে অডিও, ভিডিও ধারণ করার সুবিধা। পাশাপাশি এই অ্যাপের মাধ্যমে কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। কারখানা পরিচালন কর্তৃপক্ষ কর্মীর মুঠোফোনে পাঠাতে পারবে দাপ্তরিক নোটিশ, নির্দেশনাসহ নানা তথ্য। এমনকি অ্যাপটি ব্যবহার করে কর্মীরা তাঁদের স্মার্টফোন থেকে সহজেই জেনে নিতে পারেন কাজের তালিকা, প্রশিক্ষণসূচি, অফিস ছুটি বা খোলাবিষয়ক তথ্য। করা যাবে ছুটির আবেদনও।

কুটুম্বিতা বাংলাদেশ নামের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বানিয়েছে এই অ্যাপ। সিঙ্গাপুরে তাদের প্রধান কার্যালয়। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির দেশীয় ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার রহমান বলেন, ‘পোশাকশিল্পের কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি করতে চাই, যার ফলে কর্মীরা সন্তুষ্টি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশে কাজ করতে পারে—এমন উদ্দেশ্য থেকে কুটুম্বিতা অ্যাপ বানানো হয়েছে। এই অ্যাপ কর্মীদের কর্মসক্ষমতা বাড়ায় এবং কারখানার দৈনন্দিন পরিচালন খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনে।’
শুধু যে দেশের পোশাক কারখানায় এই অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে তা নয়; বিভিন্ন দেশের পোশাক কারখানায়ও এই অ্যাপের ব্যবহার চালু হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ও বৈশ্বিক গণমাধ্যমেও কুটুম্বিতা অ্যাপ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এসকিউ গ্রুপ তাদের বিভিন্ন পোশাক কারখানার জন্য এই অ্যাপ ব্যবহার করছে। তাদের অধীন এসকিউ সেলসিয়াসের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক ওয়ারিসুল আবিদ কুটুম্বিতা সম্পর্কে বলেন, ‘যাঁরা নন-ডেস্ক কর্মী তাঁরা সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থার বাইরে থাকেন। কিন্তু তাঁরা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাই এমন কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এই অ্যাপ বেশ কাজে দিচ্ছে।’ অ্যাপটি ব্যবহারের পর থেকে তাদের পরিচালনা খরচ কমেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির কর্মী তোফায়েল আহমেদ বললেন, ‘এই অ্যাপ ব্যবহারের পর থেকে সহজেই কর্মস্থলের নানা তথ্য জেনে যাচ্ছি।’ এই কারখানায় দুই বছর ধরে কাজ করা সেলিমা বানু নামের আরেক কর্মী জানালেন, কোনো সমস্যার অভিযোগ করলে কুটুম্বিতার মাধ্যমে সহজে সমাধানও মিলছে।
কেউ এই অ্যাপ ব্যবহার করতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির (www.kutumbita.com) সঙ্গে যোগাযোগ করে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন।

Share.

About Author