ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা ইথিরিয়াম জনপ্রিয় হচ্ছে। বিটকয়েনের পরেই রয়েছে এ মুদ্রা। বিটকয়েনের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই? প্রযুক্তি দুনিয়ায় হইচই তোলা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা বিটকয়েন। অনলাইনে ডলার-পাউন্ড-ইউরোর পাশাপাশি কেনাকাটা করা যায় বিটকয়েনে। তবে অন্যান্য মুদ্রাব্যবস্থায় যেমন সে দেশের সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক জড়িত থাকে, বিটকয়েনের ক্ষেত্রে তা নয়। ২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামের কেউ কিংবা একদল সফটওয়্যার ডেভেলপার নতুন ধরনের ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার প্রচলন করে। এ ধরনের মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সি নামে পরিচিতি পায়। নাকামোতোর উদ্ভাবিত সে ক্রিপ্টোকারেন্সির নাম দেওয়া হয় বিটকয়েন।

ক্রিপ্টোকারেন্সির দুনিয়ায় বাজার দখলের দিক থেকে বিটকয়েনের পরের অবস্থানে আছে ইথিরিয়াম। ২০১৩ সালে ভিটালিক বুটকারিন প্রতিষ্ঠিত এ ভার্চ্যুয়াল মুদ্রায় ইথার নামের একটি ক্রিপটোকারেন্সি ব্যবহৃত হয়। অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে ও মুদ্রা ব্যবহৃত হয়।

ইথিরিয়াম কোনো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় না। এ মুদ্রা দিয়ে বিনিয়োগ, বিভিন্ন চুক্তিসহ নানা কাজ করা হয়। ইথিরিয়াম সাধারণত ‘স্মার্ট কনট্রাক্টসে’ ব্যবহৃত হয়। এ স্মার্ট কনট্রাক্টস হচ্ছে লেনদেনের প্রোটোকল বা প্রোগ্রাম যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই চুক্তির শর্ত পূরণ করে।

২০১৬ সাল থেকে এ মুদ্রা দিয়ে লেনদেন হয় এবং বর্তমানে ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা জগতে ২৭ শতাংশ দখল করে রেখেছে। ডয়চে ব্যাংক ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের এক প্রতিবেদনে অনুযায়ী, প্রতি বছর এক কোটি ৮০ লাখ ইথারের বেশি অনুমোদন করা হয় না। ইথারের অনুমোদন সীমিত হওয়ায় প্রতিবছর এর চাহিদা বাড়ছে এবং আপেক্ষিক মুদ্রাস্ফীতি হার কম থাকে। এটি মূলত ইথহ্যাস মাইনিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে।

দ্য বিটকয়েন বিগ ব্যাং নামের বইয়ের লেখক ব্রায়ান কেলি লিখেছেন, ইথিরিয়ামের লক্ষ্য হচ্ছে কোনো ডেভেলপারের জন্য স্মার্ট কন্ট্রাক্ট লেখা সহজ করা বা ইথিরিয়াম ব্লকচেইনে চলবে। এ প্রযুক্তির প্রভাব অস্বীকার করা যাবে না।

বিটকয়েন ও ইথিরিয়াম ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি ক্রিপটোকারেন্সি এখন আলোর মুখ দেখেছে। এর মধ্যে আছে রিপল, লাইটকয়েন, মনেরো, ড্যাশ, এনইএম প্রভৃতি।
তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস।

Share.

About Author