প্রথম প্রেম কি ভোলা যায়? গুগল-এইচটিসির সম্পর্ক ঠিক যেন তাই। গুগলের অ্যান্ড্রয়েডচালিত প্রথম স্মার্টফোন তৈরি করেছিল তাইওয়ানের এইচটিসি। এ ছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন একসঙ্গে স্মার্টফোন নিয়ে কাজ করছে। তাই এইচটিসির পিক্সেল বিভাগের স্মার্টফোন টিমকে অধিগ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল।

গুগল আবার ফিরছে হার্ডওয়্যারের দুনিয়ায়। স্মার্টফোন বাজারে আবার বড় বাজি ধরেছে মার্কিন প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানটি। ১১০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করে এইচটিসির পিক্সেল স্মার্টফোন বিভাগের একটি অংশ অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কেন এইচটিসিতে এত আগ্রহ গুগলের?

গুগলের হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান রিক অস্টারলো এক ব্লগ পোস্টে বলেছেন, গুগলের হার্ডওয়্যার বিভাগে এইচটিসির মেধাবী একটি টিম যুক্ত হবে। এইচটিসিকে কেনার ফলে গুগলের স্মার্টফোনের প্রতিশ্রুতি আর হার্ডওয়্যার ব্যবসা গতি পাবে। এইচটিসির কপিরাইট পাবে গুগল।

গত বছরের মতোই এবারেও গুগলের পরবর্তী পিক্সেল ফোন তৈরি করছে এইচটিসি। অস্টারলো বলেছেন, এইচটিসির সহকর্মীরা কর্মী হিসেবে দারুণ হবে। তাঁদের সঙ্গে পিক্সেল স্মার্টফোন নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি। ওই দলের সঙ্গে দলগতভাবে কাজ করাটা রোমাঞ্চকর হবে।

গুগলের সঙ্গে এইচটিসির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। গুগলের প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন তৈরি করেছিল এইচটিসি। নাম ছিল এইচটিসি ড্রিম। এ ছাড়া ২০১০ সালে গুগলের প্রথম নেক্সাস ফোন নেক্সাস ওয়ান তৈরি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৪ সালে নেক্সাস ৯ ট্যাবও তৈরি করেছিল ওই প্রতিষ্ঠানটি।

অবশ্য, স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কেনার অভিজ্ঞতা গুগলের জন্য সুখকর হয়নি। এইচটিসির আগে মটোরোলাকে কেনার অভিজ্ঞতা ছিল গুগলের। ২০১২ সালে এক হাজার ২৫০ কোটি মার্কিন ডলারে মটোরোলা মোবিলিটিকে কিনলেও গুগলের জন্য তা লাভজনক হয়নি। দুবছর পরে মাত্র ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারে মটোরোলাকে চীনের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান লেনোভোর কাছে বিক্রি করে দেয় গুগল।

মটোরোলার পরে স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে এইচটিসির পিক্সেল বিভাগটি তাই দ্বিতীয় বৃহত্তম অধিগ্রহণ গুগলের। গুগলের অন্যান্য অধিগ্রহণের মধ্যে রয়েছে ১৬০ কোটি মার্কিন ডলারে ২০০৬ সালে ইউটিউব, ১৩০ কোটি ডলারে ওয়েজ ও ৩২০ কোটি ডলারে নেস্ট।

প্রশ্ন উঠছে এইচটিসি তাহলে কি করবে? এইচটিসির পিক্সেল বিভাগটি গুগল অধিগ্রহণ করলেও ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি সিস্টেম ভাইভ বিভাগটি রেখে দিয়েছে এইচটিসি। আইওটি, অগমেন্টেড রিয়্যালিটি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এসেছে এইচটিসির কাছ থেকে। চুক্তির কোথাও উল্লেখ নেই যে, এইচটিসি স্মার্টফোন তৈরি বন্ধ করে দেবে। এইচটিসি নিজস্ব ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন চালিয়ে যেতে পারবে। এ ছাড়া স্মার্টফোন নিয়ে গবেষণাও চালিয়ে যাবে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে স্মার্টফোন বাজারে এইচটিসির শেয়ার ছিল আট দশমিক আট শতাংশ। কিন্তু ২০১৬ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে এইচটিসির শেয়ার এক শতাংশের নিচে নেমে গেছে।

তথ্যসূত্র: গ্যাজেটস নাউ।

Share.

About Author