মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে স্মার্টফোনে খেলার উপযোগী গেইম বানিয়ে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন বনি ইউসুফ।

‘গেরিলা ব্রাদার্স’ নামের গেইমটি মঙ্গলবার ‘ইএটিএল-প্রথম আলো অ্যাপস প্রতিযোগিতা ২০১৬’-তে প্রথম হয়ে ১০ লাখ টাকার পুরস্কার জিতে নেয়।

বনি ইউসুফ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

চ্যাম্পিয়ন ছাড়াও তিনটি বিভাগে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দুই লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, ব্যবসা ও কৃষি বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মো. জসিম উদ্দিন, মো. মনিরুজ্জামান, আব্দুর রাহমান ও মো. ইমাম হোসেনের ‘প-তে পড়া, খ-তে খেলা’। স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন এবং গেইম ও অগমেন্টেড রিয়েলিটি বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যথাক্রমে আব্দুল্লাহ নাইম, আব্দুল্লাহ ইমরোজ, মো. শামসুজ্জামান মিয়া ও নাহিদুল ইসলামের ‘অ্যান্ড্রয়েড ডিফেন্ডার’ এবং উম্মে কুলসুম, জান্নাতুল ফেরদৌস ও রাফি চৌধুরীর ‘শব্দমেলা’ অ্যাপ।

এ ছাড়া ধারণাপত্রের জন্য বায়োস্কোপ এবং প্রচারণার জন্য শিশু শিক্ষা অ্যাপ বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত জমকালো এক অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ পুরস্কার বিতরণ করেন। তিনি বলেন, দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। সারা বিশ্ব আমাদের এই খাতের প্রশংসা করছে। আমরা লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছি, ২০২১ সালের মধ্যে খাতটি থেকে রপ্তানি আয় হবে ৫০০ কোটি ডলার আয়ের।

অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে তরুণদের নতুন উদ্যোগগুলোকে (স্টার্টআপ) সরকার এক বছরের জন্য কাজ করার জায়গা দেবে। এ জন্য ‘স্টার্টআপ ইনিশিয়েটিভ’ গঠন করা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, দেশে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অনেক প্রতিযোগিতা হয়। তবে এটি প্রায় এক বছর ধরে ১৫টি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, প্রথম আলো সংবাদমাধ্যম হয়েও গণিত অলিম্পিয়াড, ভাষা প্রতিযোগ, অ্যাপস প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। কারণ, আমরা বাংলাদেশের জয় দেখতে চাই। আগামী বছর থেকে আরও কয়েকটি দেশকে নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি এথিকস অ্যাডভান্সড টেকনোলজিস লিমিটেডের (ইএটিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খান বলেন, এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়। ৯ মাসব্যাপী এই আয়োজনে দক্ষ অ্যাপ নির্মাতা গড়ে তোলা হয়।

অনুষ্ঠানে বিচারকমণ্ডলীর প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রতিনিধি মোখলেছুর রহমান, প্রতিযোগিতার বিচারকমণ্ডলীর সমন্বয়ক রাজেশ পালিত বক্তব্য দেন।

গত বছরের ২৪ মে চতুর্থবারের মতো শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা। এতে ৬৫০-এর বেশি অ্যাপের ধারণাপত্র জমা পড়েছিল।

চ্যাম্পিয়ন বনি ইউসুফ বলেন, পুরস্কার পেয়ে অবশ্যই ভালো লাগছে। এখন গেরিলা ব্রাদার্স গেইমে আরও নতুন ধাপ যোগ করার কাজ করছি।

প্রতিযোগিতা আয়োজনে সহযোগী ছিল সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল বিশ্বব্যাংক ও কানাডা।

Share.

About Author