চাকরির সাক্ষাৎকারে প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাইয়ে নানা প্রশ্ন করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই প্রশ্নের ধরন প্রায় একই থাকে। কোথাও আবার কিছুটা ভিন্নও হয়। অ্যাপল, ফেসবুক কিংবা আইবিএমের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সাক্ষাৎকারে কেমন প্রশ্ন করে, জেনে নেওয়া যাক।

‘অপ্রকাশিত কোনো ইউটিউব ভিডিওকে আরও ভালো করবেন কীভাবে?’

কারা এমন প্রশ্ন করতে পারে, তা নিশ্চিত বুঝে গেছেন, প্রশ্ন পড়েই। ইউটিউবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুসান ওয়াজিকি একবার নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, এমন একটি ইউটিউব পণ্য যা এখনো উন্মোচন করা হয়নি, সেটির আরও উন্নয়ন কীভাবে করা যাবে? চাকরিপ্রার্থীদের এমন প্রশ্ন করতে পছন্দ করেন তিনি। একটি উপায়ও বলতে না পারা এমন কাউকে চাকরি দেন না সুসান।

‘এ সপ্তাহে আপনি কী শিখলেন?’

চাকরিপ্রার্থীর জ্ঞান অর্জনের আগ্রহের কথা জানতে এমন প্রশ্ন করা হয় অনলাইনভিত্তিক অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান পেপ্যালে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষণ কর্মকর্তা ডেরেক হেন বলেন, তিনি প্রতি প্রার্থীকেই এই প্রশ্নটি করে থাকেন, এমনকি সপ্তাহের শুরুর দিন হলেও। কেননা, প্রতিষ্ঠানটির মূল আদর্শই হচ্ছে জীবনব্যাপী শিক্ষা অর্জন। তাই প্রতিষ্ঠানটি মনে করে, জীবনের প্রতিটা সময়ে জ্ঞান অর্জন করা উচিত।

‘বলুন তো, একবারে নির্ভুল একটি কাজ দেরি করে জমা দেবেন, নাকি ঠিক আছে—এমন কাজ নির্দিষ্ট সময়ে জমা দেবেন?’

সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, চাকরিপ্রার্থী নিজের যুক্তি কীভাবে উপস্থাপন করছেন, সেটা যাচাই করতে এমন প্রশ্ন করেন প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আইবিএম ওয়াটসনের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান ওবেদ লুইসান্ট। তিনি বলেন, ‘প্রার্থীরা কীভাবে কাজ শেষ করছেন, এর বদলে আমি জানতে চাই, কীভাবে তিনি তাঁর যুক্তি ব্যাখ্যা করছেন।’

‘আপনি কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি উৎসাহী?’

এমন প্রশ্নের উত্তরে মুখে বলার সঙ্গে সাদা বোর্ডেও তা এঁকে দেখাতে হয় লিংকডইনে চাকরির সাক্ষাৎকারে। প্রতিষ্ঠানের কর্মী নিয়োগ বিভাগের প্রধান ব্রেন্ডান ব্রাউন বলেন, এই প্রশ্নের জবাব ও পাশাপাশি এঁকে দেখানোর মধ্য দিয়ে তাঁরা একজন প্রার্থী কতটা স্বতঃস্ফূর্ত সেটাই আসলে খতিয়ে দেখেন।

‘আপনার সেরা দিনে আপনি কী করেন?’

এমন প্রশ্নের আসলে নির্দিষ্ট কোনো উত্তর না থাকলেও এর জবাবে প্রার্থীর মানসিক অবস্থাটাই যাচাই করে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক।

‘যে আপনাকে পছন্দ করে না, এমন কেউ আপনার সম্পর্কে আমাদের কী বলবে?’

নিজের ভুলত্রুটি সম্পর্কে নিজেই যেন বলতে পারে, এ জন্য স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে হবে, এমনটাই ধারণা করে ভাষা শেখার অনলাইনভিত্তিক মাধ্যম ডুলিঙ্গো। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুইস ভন আহন এই প্রশ্নটি প্রায় সব প্রার্থীকেই করেন। তিনি অবশ্য নিজেই এর একটা জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রার্থী হলে বলতাম, আমি মনে করি যারা আমাকে পছন্দ করে না, তারা আমাকে বোঝেও না, তাই তারা আমার সম্পর্কে ভুল ধারণাই পোষণ করবে।’

সূত্র: গ্যাজেটস নাউ

Share.

About Author