অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম-চালিত স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করছে এবং তা গুগলের কাছে পাঠাচ্ছে। এমনকি মুঠোফোনের অবস্থান সেবা বন্ধ করা থাকলেও! সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট কোয়ার্টজের এক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করার বিষয়টিকে গোপনীয়তা সম্পর্কিত একজন উকিলের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে কোয়ার্টজে। যদিও গুগল কোয়ার্টজকে জানিয়েছে, এ ধরনের তথ্য কখনো সংরক্ষণ করা হয়নি এবং পরবর্তী অ্যান্ড্রয়েড হালনাগাদে বিষয়টির সমাধান করা হবে।
গ্রাহকের অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ এবং তা পাঠানোর নেপথ্যে রয়েছে গুগল প্লে সার্ভিসেস অ্যাপটি। সার্চ জায়ান্ট গুগলের অধিকাংশ অ্যাপ পরিচালনার জন্য স্মার্টফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা গুগল প্লে সার্ভিসেস অ্যাপটির প্রবেশাধিকার রয়েছে। তা ছাড়া এই অ্যাপ অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আগে থেকেই যুক্ত করা থাকে। ফলে যেকোনো গ্রাহক খুব সহজেই এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে ভীতির কারণ, এ প্রক্রিয়া বন্ধ করার কোনো উপায় নেই। যদিও সেটিংস মেন্যু থেকে লোকেশন অপশন বন্ধ করলে অনেকেই হয়তো নিশ্চিন্ত থাকবেন। কিন্তু না, শুধু লোকেশন বন্ধ নয়, এমনকি ফোনে সিম কার্ড না থাকলেও পরবর্তী সময়ে অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য গুগলের কাছে চলে যাবে।
যদিও এর কারণ হিসেবে এক বিবৃতিতে গুগল জানিয়েছে, বার্তা পাঠানোর গতি এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বছরের শুরু থেকেই বিভিন্ন টাওয়ারের ঠিকানা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এর মধ্যে কখনোই ব্যবহারকারীদের সেল আইডি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে অবস্থানের তথ্য সংরক্ষণের আগেই মুছে যায়।
মুঠোফোনে গোপনে এ ধরনের কাজকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হিসেবে উল্লেখ করেছে অনলাইন অধিকার সম্পর্কিত সংগঠন প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটির একজন আইনজীবী মিলি গ্রাহাম উড বলেন, ‘আমরা যখন স্মার্টফোন কিনি, তখন কখনোই চাই না ফোনটি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করুক।’ তিনি আরও বলেন, যদিও গুগল বলেছে এ ধরনের কাজ বন্ধ করবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, ব্যবহারকারীদের অগোচরে প্রতিষ্ঠানটি আর কী কী করছে এবং কেন?

সূত্র: বিবিসি

Share.

About Author