প্রথম ঝলকে অপো এ৭১ স্মার্টফোন দেখলে ফ্ল্যাগশিপ কোনো ফোন বলে মনে হতে পারে। এর নকশা আর হালকা-পাতলা গড়ন এটাকে অন্যান্য মডেলের স্মার্টফোনের চেয়ে আলাদা করেছে। দেশের বাজারে আসা মিডরেঞ্জ বা মধ্যমসারির অপো এ৭১ ফোনটির বিশেষত্ব হচ্ছে হালের নকশা, কালার ওএস ৩.১ ইউআই, যা প্রিমিয়াম ফোনগুলোতে পাওয়া যায়। ১৬ হাজার ৯৯০ টাকা দামের ফোনটি ব্যবহারকারীকে প্রিমিয়াম ফোনের অভিজ্ঞতা দিতে পারে বলে দাবি করে অপো কর্তৃপক্ষ।

৫ দশমিক ২ ইঞ্চি মাপের ফোনটির হালকা-পাতলা নকশার কারণে ধরতে সুবিধা। ৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার পুরুত্বের ফোনটির ওজন ১৩৭ গ্রাম। মিডরেঞ্জের ফোন হলেও এর ন্যানো সিলভার প্রযুক্তি একে প্রিমিয়াম ফোনের অনুভূতি দেয়। ৫ দশমিক ২ ইঞ্চি মাপের আইপিএস এইচডি ডিসপ্লের ফোনটিতে মুভি চালানো ও গেম খেলার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত স্ক্রিন কালার দেখা যায়। এ ছাড়া এতে আঁচড় প্রতিরোধী গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে।

অপো এ৭১
১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার স্মার্টফোনটির ক্যামেরা পারফরম্যান্স ভালো। কম আলোতে ভালো ছবি তোলার জন্য এতে মাল্টি ফ্রেম ডিনয়েজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফোনটির সামনের ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরাতেও উন্নত সেলফি ওঠে। এতে অধিক ডিটেইল, লাইট ও এইচডিআর মোড চালু করা যায়।

অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ৭.১ নির্ভর কালার ওএস ৩.১ চালিত এ৭১ ফোনটিতে দ্রুত অ্যাপ চালু করা যায়। এ ছাড়া নাইট শিল্ড মোডের মতো ফিচার ব্যবহার করে চোখের সুরক্ষা করা যায়। এর স্প্লিট স্ক্রিন ফিচার ব্যবহার করে দুটি অ্যাপ একসঙ্গে চালানো যায়। ফোনটিতে মাল্টি টাস্কিংয়ের জন্য অক্টা কোর ৬৪ বিট প্রসেসর দুর্দান্ত। এর ব্যাটারি তিন হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ারের। এটি লি-আয়ন ব্যাটারি এবং তা খোলা যায় না। ব্যাটারিতে একবার ফুল চার্জে টানা একদিন ভরপুর কথা, গান শোনা, ছবি তোলা এবং ভিডিও করা যায়। ফোনটির সঙ্গে দেওয়া অ্যাডাপ্টর ব্যবহার করে খুব সহজে চার্জ দেওয়া সম্ভব। অপো এ৭১ স্মার্টফোনটি টুজি, থ্রিজি এবং ফোরজি সংযোগ সমর্থন করে।

অপো এ৭১-এ রয়েছে ৩ জিবি র‍্যাম, যা হাই-এন্ড গেম খেলার পাশাপাশি দ্রুতগতিতে একাধিক কাজ করতে সহায়তা করে। এর ১৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ রয়েছে। আরও ২৫৬ জিবি পর্যন্ত মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে বাড়ানো যায়। এটিতে মিডিয়াটেক এমটি ৬৭৫০ চিপসেট ব্যবহৃত হয়েছে। গ্রাফিকস কার্ডেও মালি টি৮৬০ এমপি ২ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আরও রয়েছে দুটি ন্যানো সিম কার্ড স্লট এবং ১টি মেমোরি কার্ড স্লট। ফোনটিতে ব্লুটুথ ৪.০, ওয়াইফাই ও জিপিএস সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া ডান দিকে একটি ডুয়াল সিম স্লট রয়েছে। সেটটির নিচের দিকে একটি মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও স্পিকারের নেট রয়েছে। পেছনের ক্যামেরার ওপরে ডান কোণে একটি চারকোনা এলইডি ফ্ল্যাশ লাইট ব্যবহার করা হয়েছে।

অবশ্য ফোনটিতে কোনো বিশেষ গ্লাস সুরক্ষার কথা বলেনি অপো। ফোনটি আরও সুরক্ষিত করতে ২.৫ডি গ্লাস যুক্ত করলে আকর্ষণীয় হতো। এতে একটি স্ক্রিন প্রটেক্টর প্রিইনস্টল করে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। মধ্যমসারির ফোন হিসেবে সব ধরনের সুবিধা থাকলেও এতে স্টোরেজ কিছুটা কম। ৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ, ফুল এইচডি রেজুলেশন আর নতুন সিপিইউ যুক্ত করলে অপোপ্রেমীরা নিশ্চয়ই খুশি হতেন।

Share.

About Author